April 19, 2026, 2:59 pm

বাঁচতে চান এমএম কলেজের ছাত্রী সোমা রায়

মোঃ মানছুর রহমান (জাহিদ):যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী শিক্ষার্থী সোমা রায় (২৬)। মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য ৭-৮ লাখ টাকা প্রয়োজন।
কিন্তু এত টাকা জোগাড় করতে পারছে না তার দরিদ্র পরিবার। সোমার বাবা শহরের একটি সুপার শপে সামান্য বেতনে চাকরি করেন। মা সবিতা রায় গৃহিণী। তিনিও অসুস্থ। আর একমাত্র ছোটভাই এবার এইচএসসি পাস করেছে।
সোমার সুচিকিৎসার জন্য এত টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। মানুষের সহযোগিতা পেলে মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবনটা ফিরে পাবেন। সংসারের হাল ধরতে পারবেন।
জানা যায়, যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার বাসিন্দা অশোক রায় ও সবিতা রায় দম্পতির একমাত্র মেয়ে সোমা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত হোম টিউটর, দক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষক এবং গ্রামীণফোন কাস্টমার কেয়ারের একজন সার্ভিস হোল্ডার হিসেবে সংসারের হাল ধরেছিলেন।
সোমার ইচ্ছা ছিল একজন আদর্শবাদী শিক্ষিকা হয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গের উপক্রম। তিনি মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। সংগ্রামী সোমা রোগাক্রান্ত হওয়ায় তার পরিবার, সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
তার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। যশোর ও খুলনায় চিকিৎসা শেষ করে বর্তমানে বাড়িতেই ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, দ্রুত অপারেশন করালে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারতে নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।অশোক রায় জানান, নিজেরা নিরক্ষর হলেও দুই ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করেছি। তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। সোমা পড়াশুনায় মেধাবী। সে সংসারের হাল ধরেছিল। হঠাৎ তার অসুস্থতা সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসুস্থতা নিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে।গত মাসে হঠাৎ করেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার মরণব্যাধি ব্রেন টিউমার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগবে।
কিন্তু আমার কাছে এত টাকা সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সোমাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা